1. admin@kholanewsbd24.com : admin :
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পাক্কা ৪০ কেজিতে আমের মণ নির্ধারণ হবে। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন স্বত্বেও নিম্ন আদালতের রায়ে ১০টি হিন্দু পরিবার ও ১৮টি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ! জবি মার্কেটিং ক্লাবের সভাপতি রায়হান, সম্পাদক সাইদ রামুর চেইন্দা এলাকায় ১৪৭৫ পিস ইয়াবা সহ তিনজনকে গ্রেফতার। টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বেরিয়ে গেছে পেটের ভুঁড়ি আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে বিএমএসএস নেতৃবৃন্দের শোক প্রকাশ। পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি বেগম জিয়াকে হত্যার হুমকির সামিল– মির্জা ফখরুল ১৯ বছর পর গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন সখীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী রনি’র নিজ অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে হযরত শাহজালাল রহঃ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক প্রকাশ।

শরীয়তপুরে ঈদের দিন আ.লীগ নেতা নিহত হওয়ার জেরে লুটপাট: পাল্টাপাল্টি মামলা

প্রশাসন
  • সময় : শনিবার, ৭ মে, ২০২২
  • ৩৬০ বার পঠিত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের চিতলিয়া ইউনিয়নে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি কুদ্দুস বেপারী নিহত হওয়ার জেরে আসামি পক্ষের বাড়িঘরে তিনদিন পর্যন্ত ব্যাপক লুটপাট ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পালং মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলায় শতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের শত শত পুরুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

পালং মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের ৬৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। অপরদিকে, কয়েক জনকে জখম করার কারণে সালাম হাওলাদারের ৭৫ সমর্থককে আসামি করে পাল্টা মামলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের থেকে জানা গেছে, লুটতরাজ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে ৩ মে ঈদের নামাজের পরেই সালাম হাওলাদারের সমর্থক লিটন বেপারী ও সৈয়দ সরদার হারুন হাওলাদারের সমর্থক ঈমাম হোসেনকে মারধর করার কারণে দুই পক্ষের মধ্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিকেল থেকে শুরু করে ৫ মে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় অন্তত কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিতলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার ও চিতলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মাস্টার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে দুই ভাগে বিভক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। কুদ্দুস বেপারী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভয়ে হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই সুযোগে হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের বসত বাড়ি থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালঙ্কার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার, ঢালাই মেশিন, মিকচার মেশিন, ভাইব্রেটর মেশিন, নছিমন, এমনকি ঘরের ব্যবহৃত থালাবাসন, চাল ডাল লুট করে নিয়ে গেছে সালাম হাওলাদারের সমর্থকরা। প্রায় ৪০-৫০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুট করে ট্রাক-পিকআপ ভরে নিয়ে গেছে সালাম হাওলাদারের সমর্থকরা।

চিতলিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মজুমদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন চৌকিদার বলেন, ঈদের নামাজ শেষ হতে না হতেই শুনি ইমাম হোসেন বেপারীকে প্রতিপক্ষ মারপিট করেছে। এরপর রাস্তা এসে দেখি উভয় পক্ষ মুখোমুখি। আমি প্রথমে মারামারি থামানোর চেষ্টা করি। এরপর ব্যর্থ হয়ে থানায় বার বার ফোন করে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করি। ঈদের নামাজ শেষ করে পুলিশ দেখেন সংঘর্ষ থেমে গেছে। আমি মারামারি থামাতে গিয়েও হত্যা মামলার আসামি হয়েছি। আমার আরও তিন ভাই ও ভাতিজাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতে লুটপাট করে ঘরের সমস্ত জিনিপত্র নিয়ে গেছে। এখনো হুমকি ধামকি দেয়ার কারণে শত শত পুরুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

জাকির সরদারের স্ত্রী সেফালী জানান, ঈদের দিনের মারামারিকে কেন্দ্র করে আমার সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে সালাম হাওলাদারের লোকজন। তারা ঢাল, ছেন নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুট করেছে। ভয়ে আমি টয়লেটে পালিয়ে ছিলাম।

জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী রেনু জানান,পুরো বাড়ি ঘেরাও করে জালাল হাওলাদারের ছেলে জয় ঘরের ভেতর ঢুকে আমার গলায় ছেন করে বলেছে ঘরে যা আছে ভালোয় ভালোয় দিয়ে দে অন্যথায় জবাই করে দেব।

মনির সরদারের স্ত্রী মারিয়া আক্তার জানান, ফ্রিজ নিয়ে গেছে, আলমারি ভেঙে যা কিছু পাইছে সব কিছু নিয়ে গেছে। আবার বলে গেছে সন্ধ্যার পর পিকআপ নিয়ে এসে বাকি যা আছে তাও নিয়ে যাবে। গণি সরদারের ছেলে আউয়াল, জাহাঙ্গীর সরদার এরা এসে সব নিয়ে গেছে।

আতাবর রহমান সরদারের মা ছলেহা (৬০) জানান, আমার ছেলের মুদি দোকান লুট করে নিয়েছে সৈয়দ সরদার, আউয়াল সরদার, আনোয়ার সরদার, বেলায়েত মাদবর, মোশাররফ বেপারী, জালাল বেপারীর ছেলে হান্নান। জাকির সরদার (৫০), দেলোয়ার সরদার (৪৫),আনোয়ার সরদার (৩৫),লিয়াকত সরদার (৩০),হানিফ সরদার (৩৫), আক্তার সরদার (৩০),ইমান হোসেন সরদার (২৫), এনামুল সরদার,জাহাঙ্গীর হাওলাদার, দুলাল মৃধা ও আব্দুল হাইর (মেম্বার প্রার্থী ছিলেন) বাড়িঘরসহ প্রায় ১৫/২০টি বাড়িঘর লুট হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালেক হাওলাদের ছেলে জসিম হাওলাদার, ওয়াসীম হাওলাদার, রাজ্জাক, আবুল,আজিজুল, বায়জিদ হাওলাদার, তাহসিন হাওলাদার, জালাল হাওলাদারের ছেলে জয়, মালেক হাওলাদারের ছেলে মাহাবুব, মাসুদ হাওলাদার, সেলিম হাওলাদারের ছেলে শাওন, আনোয়ার চৌকিদারসহ প্রায় ৫০/৬০ জন লোক এসে হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের বাড়িঘর লুট করে গরু বাছুর, স্বর্ণালঙ্কার, ফ্রিজ, নগদ টাকাসহ গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।

এব্যাপারে চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার মুঠোফোনে জানান, তারা নিজেরা নিজেদের ঘরবাড়ি লুট করে আমার নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর পায়তারা করছে। তারা যে নিজেরা নিজেদের ঘরবাড়ি লুট করেছে তার ফুটেজ পুলিশের কাছে আছে। তাছাড়া ঐ ভিডিও গুলো ফেসবুক ছড়িয়ে পড়েছে তা আপনারা চাইলেও দেখতে পারবেন।

এব্যাপারে চিতলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাস্টার হারুন হাওলাদারের ছেলে সোহান হাওলাদার বলেন, একটা পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি খুন হয়েছে। এখন বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আমাকে সহ ইউনিয়নের নির্দোষ মানুষদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ভয়ে পুরো এলাকা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। আর সুযোগে সালাম হাওলাদারের হুকুমে তার লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি থেকে গরু বাছুর থেকে শুরু করে লবনের বাটি পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। সত্যের একদিন জয় হবে এটাই আমার বিশ্বাস।

এব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বলেন, চিতলিয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। আমরা ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলায় লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ আছে, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ খোলা নিউজ বিডি ২৪
Themes Customize By Theme Park BD