1. admin@kholanewsbd24.com : admin :
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহ গফরগাঁও পাগলা থানা এলাকার ইটের ভাটা গুলো চলছে পাগলা প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে । আশুলিয়ায় বসত বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডঃ আরজেএফ’র উদ্যোগে বিশ্ব তথ্য সুরক্ষা দিবস পালিত মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে শীত বস্ত্র বিতরন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ নোয়াপাড়া পৌরসভার পরিচিতি ও বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত রংপুরে চুরির অপবাদে দুই শিশুকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১ “ যেকারণে বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষায় সংষ্কার সাধন যুক্তিযুক্ত ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়াতে দুর্ধর্ষ চুরি, ঠাকুরগাঁওয়ে আলু ক্ষেতে ধনপতি কৃষকের মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ । চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধভাবে কাটা পুকুরের মাটি বহনকারী ট্রাক্টরে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি

” জীবনযুদ্ধে জয়ী এক নারীর গল্প “

প্রশাসন
  • সময় : বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৩৩ বার পঠিত

সিনিয়র রিপোর্টার

সেদিন ছিলো ১৯ শে এপ্রিল সময়টা সঠিক মনে নেই, পাত্রী দেখার জন্য বরপক্ষ আসলো বাড়িতে, কন্যাদ্বায়গ্রস্থ পিতা নিজের মাথার বোঝাটা হালকা করার জন্য মেয়েকে পরম আগ্রহ ও আশা নিয়ে দেখালো বরপক্ষের গণ্যমান লোকজনদের। মেয়ের সুখ আহ্লাদে পিতা- মাতার প্রায়ই হৃদয় ছাৎ করে উঠে, তাঁর মেয়েটা কী জীবনে স্বামীর সংসারে সুখী হবে? নাকী সুখের কপাল তো গড়ে নি, কারণ আটদশটা মেয়ের মত কলেজ ভার্সিটিতে মাস্টার ডিগ্রিও সে লাভ করেনি। সে মাত্র প্রাক- প্রাইমারি ব্রাক ইস্কুলে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। এসময় বিয়ে,স্বামীর সংসার, দ্যাম্পত্য জীবন কেমন হয় কিরূপ হয় সেটা সে কিছুই বুঝে উঠেনি। শুধু মায়ের রান্না কাজে একটু জোগান দেওয়া ও ব্র্যাক ইস্কুলে যাওয়া আসা ছাড়া বেশিকিছু বোধগম্য নয় তাঁর।

কিন্তু বরপক্ষ নাছোরবান্দা পাত্রী দেখে পছন্দ হলো, শতেক দুশো টাকাও দিলো, মেয়ের হাতে, প্রথমে টাকা নিতে আপত্তি করলেও পরে নিয়ে বেশ খুশিও সে, কারণ শতেক দুশো টাকা হলে মাসেক খানিক ইস্কুলের জন্য টিফিন হয়ে যাবে তাঁর। সে একপর্যায়ে মহাখুশি, বেশ আপ্লুত।

এদিকে পিতা, পাশের বাড়ির ক,জন মুরুব্বি সহ পাত্রপক্ষের সাথে কথা পাকাপোক্ত করে ফেললো, বিয়ে হয়ে যাবে, এখন দরকার বৌভাত আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন। যেমনি সিদ্ধান্ত ঠিক তেমনি বাস্থবায়ন, হয়ে গেলো বিয়ে। বয়স কম বা নাবালেকা হওয়ায় কিছু সমস্যাও হলো বনিবনায়।

আস্তে আস্তে বয়স প্রাপ্ত হলো, বুদ্ধি বুঝমান হওয়া শুরু হলো।
স্বামী, সংসার জীবন বেশ ভালোই চলতে থাকলো। একটি ছেলে সন্তানও হলো তাদের ঘরে।

বিধির বিধান অখন্ডনীয় ছেলে সন্তানের বয়স ২/৩ হলেই স্বামী রোগাক্রান্ত হয়ে শয়নশয্যায় কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে অবশেষে
স্বামী মরে গেলো। যেনো মাথায় পরলো আকাশভাঙা পাথর,
আর সংসারে নেমে এলো ঘোর অন্ধকারের বিজলি গর্জন। নিস্তেজ হয়ে গেলো বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।
স্বপ্নগুলো ভেঙে চিরচির, হয়ে গেলো।
এমনিভাবে কেটে গেলো প্রায় দুই সাল।
না! এমনিতে আর চলা যায় না। রাজা বিহিন রাজ্য উদাস উদাস লাগে
বিরানভূমির মত মনে হয়।

নানা কল্পনা জল্পনা করে অবশেষে পিতার ঘরে ঠায় নিলো।
কিন্তু কতদিন এমন চলবে, স্বামী ও সংসারশুন্য????
না! কিছুই যেনো ভালো লাগেনা, স্থীর লাগে না, শুধু অস্থির আর অস্থির লাগে মনে।
মেয়েটির মৌন আবেশ ও উদাসীনতা লক্ষ্য করে তাঁর পিতা -মাতা
আবার ঠিক করলো মেয়েকে পূণঃরায় বিয়ে দিবে।
দৃতীয় বিবাহের বিষয়ে নানা ভাবনা চিন্তা করে বিয়ের
নিমিত্তে পাত্র তালাশে
চুপিচুপি সময় দেয় তারা।

মেয়েও কিছু টেরপায়। পিতার দ্বীর্ঘনিঃশ্বাসের হাইতুলা হা করা মুখ ও চোখের পাতার বিন্দু অশ্রু দানা দেখে সেও
মৌন সম্মতি দিয়ে মাকে বললো, তোমরা যা ভালো বুঝো তাই করো।

স্বল্পকিছু দিনের ব্যবধানে হয়ে গেলো দ্বিতীয় বিবাহ।
শুরু হলো স্বামীর সংসার। স্বামী সহজ সরল হওয়ায়
একপক্ষীয় ভাবে নিজ পরিচালনাতে সংসার জীবন নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিলো তাঁর।
দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে আরো একটি পুত্র সন্তান আসলো। পুত্র সন্তানটির বয়স প্রায় আনুমানিক -৩–৪ হবে সেসময়।
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস দ্বিতীয় স্বামীও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে
ইহজীবন ত্যাগ করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
অতঃপর মেয়েটি হয়ে গেলো এক নিঃস্ব, পরাভূত পথহারা অন্ধ পথিক।
সমাজের লোকেরা তাকে নিয়ে উপহাস বিদ্রুপ শুরু করলো, সে নাকী স্বামী খাওয়া কলঙ্কিত নারী।

তিনিও ( মেয়েটি) মুখকে আচল দিয়ে ঢেকে, বুককে পাষাণ পাথরে চেপে রাখলো আর
উপরোওয়ালা আল্লাহ্ কে বললো । হে আল্লাহ্ আমি এমন কী পাপ করেছিলাম যে এমন কঠিন শাস্তি আমাকে দিচ্ছো। আমাকে স্বামী হারা না করে আমাকে তুমি মৃত্যু দিতে!!
হে আল্লাহ তুমি যা করো ভালোর জন্যই করো।
এসব কথা বলে বলেই নিজেকে সান্তনা দিয়ে যাচ্ছে অবিরত।

হঠাৎ মনে জাগ্রত হলো আগামীর জীবনের কথা, ভাবলো এটা তো জীবন হতে পারে না, সামনে এগোতে হবে, থেমে গেলে চলবেনা।
থমকে গেলে জীবনের পূর্ণতা কি? তাই এসব ভাবতে ভাবতে
সেলাই মেশিনে কাজ শিখে ও সেলাই কাজ করে মহিলাদের
সকল পরিধেয় পোষাক তৈরি করে টাকা কামাইয়ের দিকে মনোনিবেশ করলো।
হাস মুরগী, গরু ছাগল প্রতিপালন করা, এবং হস্তশিল্পের কাজে উদ্যোগী
উদ্যমী হয়ে সে এখন সফল ও স্বপ্রতিষ্ঠিত নারী।
তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলাধীন খেরুয়াজানী ইউনিয়নের যাত্রাটি গ্রামের মোঃ হাফিজুর রহমানের মেয়ে তাহমিনা খাতুন।

সংকলনেঃ এ এস এম সাদেকুল ইসলাম
কবি,সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ খোলা নিউজ বিডি ২৪
Themes Customize By Theme Park BD