1. admin@kholanewsbd24.com : admin :
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নড়াইলে কালিয়া পুলিশের হাতে জমি জালিয়াতচক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার ময়মনসিংহ গফরগাঁও পাগলা থানা এলাকার ইটের ভাটা গুলো চলছে পাগলা প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে । আশুলিয়ায় বসত বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডঃ আরজেএফ’র উদ্যোগে বিশ্ব তথ্য সুরক্ষা দিবস পালিত মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে শীত বস্ত্র বিতরন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ নোয়াপাড়া পৌরসভার পরিচিতি ও বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত রংপুরে চুরির অপবাদে দুই শিশুকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১ “ যেকারণে বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষায় সংষ্কার সাধন যুক্তিযুক্ত ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়াতে দুর্ধর্ষ চুরি, ঠাকুরগাঁওয়ে আলু ক্ষেতে ধনপতি কৃষকের মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ।

ঠাকুরগাঁওয়ে কোয়েল পাখির খামার করে জাহিদুলের ভাগ্য পরিবর্তন ।

প্রশাসন
  • সময় : সোমবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৪১ বার পঠিত

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,,
ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের হাজিপাড়া এলাকায় বিসমিল্লাহ ড্রাই ওয়াশের দোকান করে দিনযাপন করছিলেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। কিন্তু; লকডাউনের কারণে ড্রাই ওয়াশের ব্যবসায় ধস নামে। লকডাউনে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কি করবে? কোন প্রকার সমাধান খুঁজে পায় না ,জাহিদুল। অনেক চিন্তা করে লকডাউনের সময় সিদ্ধান্ত নেয় কোয়েল পাখির খামার করার। যেমন চিন্তা তেমন কাজ।
গত বছর লকডাউনের সময় ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার সালান্দর এলাকায় জমি লিস নিয়ে ‘বিসমিল্লাহ কোয়েল পাখির খামার’ নাম দিয়ে কোয়েল পালন শুরু করেন জাহিদুল। খামার দেওয়ার ২ মাস পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
তবে প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোন প্রকার সহযোগীতা তিনি পাননি বলে অভিযোগ তার। সরকারি সহযোগীতা পেলে খামারের পরিধি বৃদ্ধি করে আরো অনেকের কর্মসংস্থানের আশাও ব্যাক্ত করেন জাহিদুল।
বর্তমানে জাহিদুলের খামারে ২৫শত থেকে ৩ হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে ২২শত থেকে ২৩শত ডিম সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। আর তার খামারে এখন ৬ জন মানুষ নিয়মিত কাজ করে। এই খামার থেকে জাহিদুল সহ আরো ৬ জনের পরিবার ভালোভাবেই চলছে জানান ,খামারের অন্য কর্মচারিরা। খামারি জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোন পরামর্শ এবং সহযোগিতা ছাড়াই তিনি এত দূর এসেছেন। এখন শীতে প্রতিদিন ৫/১০টি কোয়েল পাখি মারা যাচ্ছে। কিন্তু প্রাণী সম্পদ থেকে কেও কোনদিন তার খামার দেখতেও আসেননি। একবার শুধু রানীক্ষেত রোগ এর জন্য কয়েকটি টিকা এনেছিল তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমার খামারে ৬ জন মানুষ কাজ করে। খামারের ডিম বিক্রয় করে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকার মত লাভ থাকে। সেই টাকা কর্মচারিদের বেতন দিয়ে নিজেও সংসার নিয়ে ভালোই চলছি। তবে সরকারী কোন প্রকার সহযোগীতা বা লোন পেলে খামারের পরিধি আরো বাড়াবো।’তিনি বলেন, ‘কোয়েল পাখির সংখ্যা আরো বাড়ালে ডিম উৎপাদন বেশি হবে। আরো মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই কোয়েল খামারের মাধ্যমে।’ সে জন্য সরকারের কাছে সহযোগীতার আশা করেন জাহিদুল। জাহিদুল জানান, একটি কোয়েল পাখি ৪৫ দিনে ডিম দেওয়া শুরু করে। ৬০ দিন থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ডিম দেয়। এখন আমার খামারে প্রতিদিন ২২শত থেকে ২৩শত ডিম উৎপাদন হয়। খামার হতেই ডিম সংগ্রহ করে নিয়ে যায় ব্যবসায়িরা। বর্তমান শীতে রাস্তার পাশের ভাপা পিঠা, ডিম সিদ্ধ করে বিক্রয় করা হয়। সেখানে ডিম এর চাহিদা ভালো।
খামারে কাজ করেন সুমন জানান, ‘তিন বেলা সময় মত খাওয়া ও পানি দেওয়া হয় পাখিগুলোকে। ৭ দিন পর পর কোয়েল খামার পরিস্কার করা হয়। এই পাখির রোগ বালাই খুবই কম হয়। তবে এখন ঠান্ডায় অনেক পাখি মারা যাচ্ছে। এছাড়া পাখির খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেশি পড়তেছে লালন পালনে।’
কোয়েল খামারের ম্যানেজার শরিফ জানান, ‘সংসারে অভাব ছিল। কোয়েল পাখি পালন করে এখন ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। সংসারে এখন স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। কোয়েলের খামারে সঠিক ভাবে খাবার ও পরিচর্যা করতে পারলে লাভবান হওয়া সম্ভব। নিজেরও কোয়েল পাখির খামার করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন ম্যানেজার শরিফ। ডিম ক্রয় করতে আসা বাসস্ট্যান্ডের দোকানদার সরিফুল বলেন, ‘কোয়েল এর খামার থেকে ৯ টাকা হালি দরে ডিম ক্রয় করে নিয়ে যাই। বাজারে খুচরা ১২ টাকা হালি দরে ডিম বিক্রয় করা হয়। এখন রাস্তার পাশে ভাপা পিঠা, ডিম সিদ্ধ এর দোকানে কোয়েল পাখির ডিম সিদ্ধ করে বিক্রয় করা হয় প্রতি পিচ ৫ টাকা দরে। এই ডিম অনেক পুষ্টিকর ও সুস্বাদু।’
ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ শাহরিয়ার মান্নান জানান, হাঁস-মুরগির মতো কোয়েল পাখি পালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছে। কোয়েল পাখির রোগব্যাধি কম। এজন্য টিকা দিতে হয় না এবং কৃমির ঔষুধও খাওয়াতে হয় না। অনেকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কোয়েল পাখি পালনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এখন শীতে কোয়েল পাখি মারা যেতে পারে। সে জন্য হিট দেওয়ার ব্যবস্থা করলে মৃত্যুর হার অনেকটা কমে যাবে।

মোঃ মজিবর রহমান শেখ
০১৭১৭৫৯০৪৪৪

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ খোলা নিউজ বিডি ২৪
Themes Customize By Theme Park BD