1. admin@kholanewsbd24.com : admin :
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তির দুই যুগ। গাজীপুর কাশিমপুরের দুই নং ওয়ার্ড পুলিশিং কার্যালয় শুভ উদ্বোধন ৷ লতব্দী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহিরের গণসংযোগ নড়াইলের লোহাগড়া ইতনা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে কুপিয়ে যখম জাতির পিতার আদর্শে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গাজীপুর আওয়ামীলীগ পরিবার ঐক্যবদ্ধঃ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করোনার কারণে ৮ মাস বন্ধ থাকার পর চালু হলো “বেনাপোল এক্সপ্রেস” সিরাজদিখানে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রস্তিমূলক সভা শোক সংবাদ-ইসলামপুর কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আর নেই! আমিনবাজারে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা: ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন। বাদামের উপকারীতা

রাত পোহালেই আতঙ্কিত সেই “১৫ নভেম্বর” সিডরের -১৫ বছর।

প্রশাসন
  • সময় : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৬ বার পঠিত

ইমরান হোসেন বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।

আগামী কাল সোমবার সেই দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনে সুপার সাইক্লোন আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। লণ্ডভণ্ড করে দেয় প্রকৃতি ও মানবতাকে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় বাগেরহাটের- মোরেলগঞ্জ,শরণখোলা সহ সবকটি উপজেলা। এ ভয়াবহ স্মৃতি আর বেদনায় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আজও জড়িয়ে আছে।
সিডরের ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ স্মৃতি যেন আজও উপকূল এলাকার মানুষের মনে ভয়াবহতা বয়ে বেড়াচ্ছে। সিডরের অগ্নি মূর্তির কথা,মনে করে অনেকে এখনো আঁতকে উঠে নিজের অজান্তে।
গত কয়েক বছরে সিডর বিধ্বস্ত বাগেরহাটবাসী ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও দেশি-বিদেশি অগণিত এনজিও তাদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবার নাম করে দাতা সংস্থার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ,ও পুনর্বাসনের নামে সরকারি-বেসরকারি, সংস্থা সঠিকভাবে কাজ না করে, লুটপাট ও আত্মসাৎ করছে বরদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ।
ভয়াল ওই সিডরে বলেশ্বরের উন্মত্ততায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় শরণখোলাসহ ওই এলাকার জনপথ। চারিদিক মানুষ আর পশুপাখির লাশের একাকার হয়ে যায়। পরবর্তীতে সৌদি সরকার, মুসলিম এইড এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও, যে গৃহ নির্মাণ করেছে তা বাসযোগ্য নয়। উপকূলবাসী চায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ।
সরকারি-বেসরকারি যে সাহায্য সহযোগিতা এসেছে। বলেশ্বরের পাড়ের মানুষগুলোর জন্য তা নিতান্তই কম নয়। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি গৃহ ও বাসস্থান । ১৫ নভেম্বর সকালে ঘোষণা হয় “সিডর” নামের ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে । দুপুর নাগাদ তা বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করবে। ঘোষিত ১০ নম্বর মহাবিপদ, সংকেতে আতংকিত হতে থাকে উপকূলবাসী। কেউ ছোটে আশ্রয় কেন্দ্রে আবার কেউবা অবস্থান নেয় নিজ বাড়িতে ।
মুহূর্তে উপকূলের মানুষ যেন আরো মহা বিপদের মুখোমুখি হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে তারা । দমকা হাওয়া বইতে থাকে।সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি । কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারলেও বেশির ভাগ মানুষ থেকে যায় নিজ বাড়িতে। রাত ১০ টার দিকে প্রবল বাতাসের সঙ্গে যুক্ত হয় জলোচ্ছ্বাস। সিডর চূড়ান্ত আঘাত হানে। রাত ১০টার পরই মূলত ঘূর্নিঝড় সিডর উপকূলীয় এলাকার। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলার, সাউথখালী ,রামপাল, মোংলাও সুন্দরবরেনর অদূরে দুবলারচরে আঘাত হানে। এ সময়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার। যা দমকা হাওয়া আকারে আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল। তার সঙ্গে ছিল ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস। ঝড়ের ব্যাসার্ধ ছিল ৭৪ কিলোমিটার, যা মুহূর্তের মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, লক্ষ্মীপুরে বিস্তৃত হয়।
নিমেষেই ধ্বংস স্তুপে পরিনত হয় জনপদ ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালা। জলোচ্ছ্বাসে তোড়ে ভেসে যায় হাজার হাজার মানুষ। পরের দিন চারদিকে শুধুই ধ্বংসলীলা। উদ্ধার হয় লাশের পর লাশ।মানুষ আর গবাদি পশু। দাফনের জায়গা নেই, রাস্তার পাশে গণকবর করে চাপা দেওয়া হয় বহু লাশ । স্বজন-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে উপকূল এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। গবাদিপশুর মৃতদেহে এলাকা বাতাস দূষিত হয়ে পড়ে।
প্রলয়ংকরি এ সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশের ৩০টি জেলা। ঝড়ে প্রায় ৫ হাজারের অধিক মানুষ মারা যায়। দক্ষিণের উপকূলীয় জেলাগুলো পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। সরকারি হিসেবে সিডরে ৩৩৪৭ জন মানুষ মারা যায়। ৫৫২৮২ জন আহত ও ৮৭১ জন নিখোঁজ হয়। গবাদী পশু মারা যায় ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৭টি। ৩০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এর মধ্যে ১২ টি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০টি উপজেলার ১৯৫০টি ইউনিয়নের প্রায় ২১ লাখ পরিবারের ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ২৫৯ জন মানুষ, ১৬৯৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৮ লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমির ফসল, ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৯৪২টি বাড়ি, ৮০৭৫ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৫৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আজও প্রিয়জন হারানো অনেকেই এখনো এই দিন এলে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন । সিডরের ক্ষতচিহ্ন বহন করে চলেছেন অনেকে। প্রিয়জন হারানোর সময় কালের উপমায় এখনো ব্যবহৃত হয় সিডরের নাম। প্রত্যন্ত জনপদে এখনো স্বজন হারা মানুষের আর্তনাদ শোনা যায়। এখনো অনেকের মাঝে, স্বজন হারানো কান্না আর অর্তনাদ বয়ে চলছে। সরকারি হিসাবে সিডরে বাগেরহাট জেলায় নিহত হয়েছে ৯০৮ জন, আহত ১১ হাজার ৪’শত ২৮ জন। সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয় ৬৩ হাজার ৬শত বাড়িঘর। আংশিকভাবে বিধ্বস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় পাকারাস্তা ৫ কি.মি. এবং কাঁচারাস্তা প্রায় ৫০ কি.মি.। ১৬.৫ কি.মি.বেড়িবাঁধ, ২০৬ টি স্কুল ও মাদ্রাসা, ৫টি কলেজ, ৪ হাজার ৭’শত ৬৯টি নৌকা ও ট্রলার ধ্বংস হয়। মৃত্যু হয় ১৭ হাজার ৪২৩টি গবাদি পশুর। বিনষ্ট হয় ১২ হাজার হেক্টর ক্ষেতের ফসল ও ৮ হাজার ৮৮৯ হেক্টর চিংড়ি ঘের।
বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী মহারাজ হাওলাদার বলেন, “ছেলে-মেয়ে” ঘরবাড়ি সব হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছি কোনো মতে। সরকার ও এনজিও থেকে সহযোগিতা পেয়ে বছরের ৬ মাস খেয়ে পড়ে থাকতে পারি । কিন্তু আমাদের কেউ কাজের ব্যবস্থা করে দেয় না। আমার আত্মীয় স্বজনরা কাজ করতে ঢাকা ও চিটাগাং চলে গেছে। এনজিও গুলো যদি এখন কাজের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে খেটে পড়ে জীবন বাচঁবে আর না হলে মরতে হবে।
কথা হয় একই গ্রামের জাকির হোসেন হাওলাদার সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ে ও ভাইরে সিডরে হারিয়েছি। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি-জায়গাজমি সব নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এহন ভূমিহীন হয়ে রাস্তার পাশে থাকতে হয়। যদি কামের সুযোগ হইতো। তাহলে জমি কিনে থাহার ঘর বানাইতাম। মোগো এহন সাহায্যে লাগবে না, কাজ করার জায়গা কইর‌্যা দিক আমগো সরকার।
দক্ষিণ সাউথখালী সেকেন্দার বলেন, অপর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ এ এলাকার মানুষের জন্য অন্যতম সমস্যা। যদি টেকসই বেড়িবাঁধ ও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, তাহলে সিডরের মত প্রাকৃতিক দুযোর্গে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পরিমাণ অনেক কম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ খোলা নিউজ বিডি ২৪
Themes Customize By Theme Park BD