1. admin@kholanewsbd24.com : admin :
মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে করোনা - খোলা নিউজ বিডি ২৪
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পলাশবাড়ীতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গভর্নিং বডির তিন সদস্যের সংবাদ সম্মেলন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘গাভী’ পেয়ে খুশি নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩৯ টি আদিবাসী পরিবার কুড়িগ্রামে ভার্মী কম্পোষ্ট উৎপাদন নিয়ে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা “ময়মনসিংহ পুলিশ হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের জন্য ডায়াগনস্টিক টেস্ট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন” সদ্য পদন্নোতি প্রাপ্ত সিআইডি’র কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান করান সিআইডি প্রধান পটুয়াখালীতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনার নির্মান কাজের ভি‌ত্তিপ্রস্থর স্থাপন ধামইরহাট সীমান্ত প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন ময়মনসিংহের গফরগাঁও অধিকাংশ ইটভাটায় পোড়ানো কাঠ শরীয়তপুর পৌরসভার স্টাফের ওপর হামলার অভিযোগ ২ বছর ভোগান্তীর পর সংষ্কার হচ্ছে গৌরীপুর- শ্যামগঞ্জ সড়ক

মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে করোনা

প্রশাসন
  • সময় : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১
  • ১২৩ বার পঠিত

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকার যে বাড়তি ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে, তার সিংহভাগই হবে করোনা মহামারির প্রভাব মোকাবিলায়। সরকারের ব্যয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দেশের জনগণের বড় অংশকে টিকা দেওয়া। আগামী বছরের জুনের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার। এ জন্য নতুন অর্থবছরের বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অর্থনীতি গতিশীল করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়- এমন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা হবে। থাকবে রপ্তানি, কৃষি ও এসএমই খাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার হবে প্রায় ৬ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা আর সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বাড়তি ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকছে সরকারের। কারণ করোনা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অনিশ্চিত। এ জন্য সরকার প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে টিকা দিয়ে প্রতিরোধ কর্মসূচি জোরদার করতে চায়। এ কারণে বাজেটে প্রয়োজনীয় টিকা কেনার অর্থ রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, করোনা পরিস্থিতির অবনতি না হলে অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশি মনোযোগ দেবে সরকার। সে ক্ষেত্রে করোনার স্বাস্থ্যগত জরুরি ব্যয়ের জন্য অর্থের সংস্থান অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দুই বিভাগের পরিচালন ব্যয়ও কিছুটা বাড়িয়ে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও ১৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেখানেও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। সরকার করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরেও সরকার কৃচ্ছ্রসাধন নীতিতে চলবে। অর্থাৎ গাড়ি কেনা, কম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ব্যয়, জরুরি প্রয়োজন নয় এমন নির্মাণকাজ, প্রশিক্ষণ, বিদেশ ভ্রমণ ও জমি অধিগ্রহণের মতো কাজে ব্যয় কমানো হবে। তবে আগামী অর্থবছরে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা পাওয়া গেলে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে পাওয়া বাজেট সহায়তার অর্থ থেকে বাড়তি ব্যয় করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া টিকা কেনাসহ স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্প থেকেও মূল্য পরিশোধ করবে সরকার। এ ছাড়া সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করাও সরকারের লক্ষ্য।

বাজেট প্রণয়নে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে সরকার দেশের প্রাপ্তবয়স্ক সব জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে চায়। কারণ টিকা দিতে পারলেই করোনার বিস্তার রোধ করা যাবে। এ জন্য প্রায় ২০ কোটি ডোজ টিকা দরকার হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ডোজ টিকার মূল্য ৫ থেকে ১০ ডলার। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২০ কোটি ডোজ টিকা কিনতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আপাতত চীন ও রাশিয়ার টিকার ওপর নির্ভর করছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা পাওয়া গেলে তাও কেনা হবে। টিকা কেনার জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে উন্নয়ন সহযোগীদের বাজেট সহায়তা থেকে টিকার দাম পরিশোধে অর্থায়ন করা হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে কম দামে চাল সরবরাহ কর্মসূচি বাড়ানো হবে। কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতে ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ থাকবে। থাকবে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অন্যান্য এলাকায় বিনিয়োগে সহযোগিতা। পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের জোর থাকছে। কারণ এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা তৈরি হবে।

মতামত জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, সবার আগে দরকার করোনার বিস্তার রোধ করা। এ জন্য টিকা দেওয়ার বিকল্প নেই। কমপক্ষে ১০ কোটি মানুষকে আগামী এক বছরের মধ্যে টিকা দিতে হবে। টিকা কেনা, দেওয়া, সংরক্ষণ, টিকা দানকারীদের প্রশিক্ষণসহ এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আগামী বাজেটে রাখতে হবে। এর পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে।

করোনার প্রভাব মোকাবিলায় চার কৌশল: টিকা কর্মসূচি ব্যাপক হারে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন সুরক্ষিত করার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরানোই আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া কর্মহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা এবং ওএমএস সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে। সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনার শুরু থেকেই সতর্ক রয়েছে সরকার। দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর তা আরও বেড়েছে। এ কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গতিশীলতা সৃষ্টিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য প্রথমত সরকার ঋণ করে অর্থাৎ বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে হলেও ব্যয় বাড়াবে। সরকার চাইছে মানুষকে নগদ অর্থ দিতে। কর্মসৃজন হয় এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এবং কৃষি খাতের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ থাকবে। এসব ক্ষেত্রে ভর্তুকি বা সহায়তা দেবে সরকার। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা ও শ্রমবাজার চাঙ্গা রাখতে যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো চালু রাখতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তৃতীয়ত, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। আরও বেশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ জন্য চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। সর্বশেষ সরকার বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপযুক্ত মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা